Type to search

সমসাময়িক

মানুষ কেন সুইসাইড করে?

আমার কোচিং এর একটা ছেলে মাস দুয়েক আগে পারিবারিক সমস্যার কারনে সুইসাইড করে। সে ছোট্ট একটা নোট লিখে গিয়েছিলো। দুঃভাগ্যক্রমে তার সেই নোটটা আমি দেখলাম গতকাল। ছোট একটা কাগজে এলোমেলো হাতে দ্রুত লিখা। কাগজটা হাতে নিয়ে আমি ভাবছিলাম এই কাগজটা একসময় সাদা ছিলো। ঘোরগ্রস্ত ডিপ্রেসড একটা ছেলে কলম হাতে এখানে লিখেছিলো। সেই হাতে এতো দিনে পঁচন ধরেছে। কি বিভৎস!

ফিলোসফি কি বলে? একজন সুস্থ্য মানুষ কেনো নিজেকে খুন করে? কারন মানুষটা চায় করুনা; যাদের জন্য তার এ অবস্থা তাদের করুনা। মানুষটা ভাবে সে নেই এটা বোধহয় ফ্যামিলি কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রেমিকার জন্য অনেক বড় প্রতিশোধ হবে। বাস্তবতা ভিন্ন। কোনকিছুই সারাজীবন অস্বাভাবিক থাকে। সবকিছু একসময় স্বাভাবিক হয়ে যায়। দুদিন মনে পড়বে, একজন অভিমানি ছিলো। একসময় শূন্যতাটাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে। প্রকৃতির শূন্যতা পছন্দ না।

নিজেকে দুঃখী মানুষ হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা বাদ দেন। আপনি কতটা সুখি মানুষ দেখতে চান? হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়া দেখেন কতগুলা মানুষ তীল তীল করে ক্ষয় হতে হতেও বাঁচার স্বপ্ন দেখে। বার্ন ইউনিট ঘুরে পোড়া মানুষগুলার চিৎকার শুনেন। কি এক তীব্র যন্ত্রনা, তবু বাঁচতে হবে! আপনার বুড়ো বাবাকে দেখেন। জীবনযুদ্ধে বিদ্ধস্ত পরাজিত পৌড়রে দেখেন। হাঁরাবার আর কিচ্ছু নাই, তবু বেঁচে থাকা চাই। আমি বলছি, লিখে রাখুন- সব শূন্যতা পূরন হলেও একজন মায়ের সন্তান হাঁরাবার শূন্যতা কখনো পূরন হবে না। যতবড় ডিপ্রেসনেই থাকুন, একবার কাছে গিয়ে বলুন ‘আম্মা কপালটা ছুঁয়ে দাও!’

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *