Type to search

জাহিদীয়

ভালোবাসি বাংলাদেশ

আমাদের স্কুলে পিটি করাতেন নাছির স্যার। স্কুলের পোলাপান উনাকে ডাকতো ‘নাছির গোল্ড’। কেনো ডাকতো জানি না। বড় ভাইরা ডাকতো, আমরাও ডাকতাম। মাঠের মধ্যে পিটির জন্য আমরা সবাই লাইন করে দাড়াতাম। রমজান নামে এক সিনিয়র ভাই জাতীয় সঙ্গীত গাইতো, আমরা উনার সাথে তাল মেলাতাম। রমজান ভাই চোখ বন্ধ করে গাইতো; আমরা পিচ্চিরা বলতাম ‘ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া গায়’

জাতীয় সঙ্গীতের পর আরামে দাড়ানো লাগতো। পেছনে হাত দিয়ে আরামে দাড়াইয়া দশবার স্যাররে মনে মনে গালী দিতাম। এই যদি হয় আরামে দাড়ানো, তো ‘কষ্টে দাড়ানো’ কোনটা!

অনেকদিন আরামে দাড়াইনা এখন। মাঠের মধ্যে চিল্লায়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া হয়না অনেকদিন। স্কুল শেষ করে ঢাকায় এসে পড়ছি। একদিন মুভি দেখতে গেছিলাম ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ এ। অন্ধকার হল রুম। মুভি শুরু হওয়ার আগে বড় বড় সাউন্ডবক্স গুলোতে বেজে উঠলো জাতীয় সঙ্গীতের মিউজিক। হুট কইরা খেয়াল করলাম পাশের সিটের সবাই দাড়াইয়া গেছে। আমিও দাড়ালাম। অটোমেটিক চোখ বন্ধ হয়ে গেলো। ডান হাতটা বুকের টান টান হয়ে উঠা পেশির উপর চলে গেলো। মিউজিকের ড্রামের বাড়িগুলা মনে হচ্ছিলো বুকের উপরই কেউ দিতেসে। কি এক স্বর্গীয় অনুভূতি!

মিউজিক শেষ। চুপচাপ বসার পর খেয়াল করলাম আমার গাল ভিজে গেছে চোখের পানিতে। অন্ধকার হল রুম, কেউ দেখে নাই। সেই অন্ধকারে প্রথম অনুধাবন করলাম, আমি আর বাচ্চাটি নাই। সেদিন বুঝলাম, রমজান ভাইয়ের চোখ বন্ধ করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কাহিনী। সেদিন প্রথম বুঝলাম, স্কুলের মাঠের সেই দিনগুলা কি ছিলো। প্রথম বুঝলাম, এই ভাঙ্গাচোরা দরিদ্র দেশটারে কত ভালোবাসি। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *