Type to search

সমসাময়িক

ভালোবাসা দাও মোরে

রাস্তায় প্রায়ই বেখাপ্পা কিছু জুটি চোখে পড়ে। যেমন খুব সুন্দর একটা ছেলের সাথে খারাপ দেখতে একটা মেয়ে। সুন্দরের সাথে অসুন্দর। লম্বার সাথে খাটো ইত্যাদি। এরকম জুটি দেখলে সবাই একটা অন্যরকম ভাবে তাকায়। বন্ধুরা হাসে। আমি নিজেও একসময় হাসতাম এবং সুন্দুরী মেয়ের সাথে অসুন্দর ছেলে দেখলে নিজেকে অপদার্থ মনে হতো। এ ব্যাপারে আমরা বন্ধুরা নানান রকম যুক্তি তুলে ধরে বিতর্ক করতাম। এসব করতে করতেই আমরা দেখলাম পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের মতো আমরাও ভালোবাসার ক্ষেত্রে স্বার্থপর।

স্বাভাবিক নিয়মটা হচ্ছে প্রতিটা মানুষ যোগ্যতাবলে আরেকটা মানুষকে নিজের করে পাচ্ছে। এই যোগ্যতার হিসেব নিকেশটার বাহিরের সম্পর্ক গুলোই আসল ভালোবাসা, যেটা নিয়ে আমরা হাসাহাসি করতাম। একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে আরেকজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষকে আমি এমনিতেই ডিসার্ভ করি। এতে আহামরি ভালোবাসার কিছু দেখছি না। সকল সম্পর্ক একটা হিসেবের ফলাফল সরুপ তৈরি হয়। আমি হেরে যাবো না তো? মেয়েটা চলে যাবে না তো? বন্ধুরা পছন্দ করবে তো? ফ্যামিলির সাথে যায় তো?

কেউ একজন এসবের বাহিরে বলে না, আমি নাহয় ধর্ষিতাই বিয়ে করলাম। আমি নাহয় একটা কালো মেয়েই বিয়ে করলাম। আমি নাহয় বেকারটারেই বেঁচে নিলাম। আমি নাহয় “অস্বাভাবিক” মানুষটারেই আপন করলাম। কেউ বলেনা, “কিচ্ছু লাগবে না, শুধু ভালোবাসা দাও মোরে”। এইসব হিসেবের বাহিরের, নিয়মের তোয়াক্কা না করা ভালোবাসা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একটা সূক্ষ্ম হিসেব চলছে সম্পর্কের মতো মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারেও। এইসব হিসাবের সম্পর্কগুলো একটু এলোমেলো হলেই ভেস্তে যাবে। আসল ভালোবাসা ওই কালো মেয়েটা আর ফর্সা ছেলেটার মাঝেই। আসল প্রেমিক তো ধর্ষিতার প্রেমিক। আমি আমরা কিছুই না।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *