Type to search

জাহিদীয়

বোনের গল্প

বোনের মুখে “ভাইয়া” ডাক শুনাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। জন্মের পর থেকেই এই মায়াময় ডাকটাকে ভীষন মিস করতাম। একটা বোন নেই। বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার গিয়েছিলাম, ওরা সবাই বোনের জন্য শামুকের চুঁড়ি ক্লিপ কিনছিলো; আমি দাড়িয়ে দেখছিলাম। একবার এক বন্ধুর সাথে ঢাকা থেকে ওর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পর দৌড়ে এসে ওর ছোটবোন ওকে জড়িয়ে ধরলো। ওর বোন সকাল বেলা ওকে “ভাইয়াআআ উঠ তাড়াতাড়ি” বলে আদুরে গলায় ডাকে। আমি এ সুন্দর দৃশ্যটা দেখি। দেখতে দেখতে আমার চোখে জল আসে।

কিছুদিন আগে বাসায় নতুন ভাবি আসে। মেঝো ভাইয়ার বউ; বয়সে আমার মতোই মোটামুটি। বড় ভাবি আছেন, বয়সের প্যার্থকের কারনেই হয়তো বড় ভাবির সাথে সেভাবে মিশতে পারিনা। সেদিন নতুন ভাবির সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। পাশ থেকে কারো প্রশ্নের উত্তরে সে প্রশ্ন কর্তার উদ্দেশ্যে বললো, “ছোট্ট ভাইয়ার সাথে কথা বলি।” ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো বিশ বছরের অপ্রাপ্তিটা আমি বোধহয় পেয়েই গেলাম। আমি বললাম, “কি বললা?” সে ভয়ে ভয়ে বলে, “কি বলেছি ভাইয়া?” আমি বলি, “ভাবি তুমি সবসময় আমাকে ছোট্ট ভাইয়া ডাকবা!”

গ্রামে বাড়ি এসে অবাক হয়ে দেখছি- সেদিন মাত্র আমাদের পরিবারে আসা একটা মেয়ে কি চমৎকার ভাবেই সব আপন করে নিয়েছে। আমার প্রাইমারি স্কুলে থাকা কালিন লেখা একটা কবিতার ডায়েরি খুঁজে পেয়ে তার আনন্দের সীমা নেই! সে কলেজে তার বান্ধবিদের দেখাতে নিয়ে গেছে। বাড়ি আসার আগে আমাকে বলেছিলো, “ভাইয়া আপনার রিসেন্ট সব লেখা প্রিন্ট করে নিয়ে আসবেন।” আমি তাই করেছি। এই সব গ্রাম্য নিরস সন্ধ্যায় বোনটা আমার লেখা পড়ে পড়ে আম্মুকে শুনায়। রোমান্টিক গল্প গুলো শুনে আম্মু হেসে বলে, “বাসায় এতো বোকা বোকা ভাব ধরো কেন?” আমার মনে হয় এইসব সন্ধ্যারা যদি রাত না হতো। সারাজীবন সন্ধ্যাই থাকতো। জীবন অনেক সুখের, জীবন ভীষন সুখের।।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *