Type to search

গল্প

বিসর্জন

প্রায় দৌড়ে এসে ক্লাসের দরজার সামনে হার্ডব্রেক কষে দাড়াতেই সুন্দুরী ম্যাডাম আগাগোড়া আমাকে দেখে নিলো। আমি উত্তরা থেকে খিঁলগাও এসে ক্লাস করি। ক্লাসে দেরি করে যাওটাকে আমি শীল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছি। উত্তরায় যখন হালকা কুয়াশা আমি তখন একটা আপেল হাতে নিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে হেলেদুলে রওনা করি। এই হাতিরঝিল রামপুরার দীর্ঘ জ্যাম পেরিয়ে যখন আসি, তখন ইকোনোমিক ক্লাস চলে। ভার্সিটির সবচাইতে সুন্দুরী ম্যাডার। আমার ব্যাক্তিগত গবেষণা মতে, সুন্দুরীদের কন্ঠ কর্কশ হয়। অথচ এই দোহারা গড়নের ম্যাডারের কন্ঠও কি অদ্ভুত সুন্দর! দোহারা শব্দটার আবিষ্কারক কে? আহা! মৃত্যুর আগে যদি সে একবার এই ইকোনোমিকের ম্যডারকে দেখে যেতে পারতো!

ম্যাডার তার সুন্দর কন্ঠে ঝংকার তুলে। আমার উষ্কুখুষ্ক চুল এলোমেলো দৃষ্টি ম্যাডামের নজর কাড়ে। উনি ধমক দেন, “ক্ষেত থেকে কামলা দিয়ে আসছো?” আমি আমতা আমতা করি। বিশ্বাস করুন, এটা গল্প না- এটা সত্য। এটা গল্প হলে আমি প্রেমিক পুরুষের মতো উত্তর দিতাম, “এ শহরে আবাদি জমির বড় অভাব ম্যাডার, কামলা দেওয়ার সুযোগ কোথায়!”

ম্যাডাম আমাকে ক্লাসে ঢুকার অনুমতি দেন। ইকনোমিক এর নানান নকশা। ব্লাকবোর্ডের “ভারসাম্যের উপর যোগান রেখার স্থানান্তর” এর চিত্রকে আমি ডুপ্লেক্স বাড়ির ডিজাইন ভেবে ভুল করি। ওটা কি, উপরে উঠার সিঁড়ি? না… DD চাহিদা রেখা। ম্যাডামের সবুজ শাড়ি, যেনো কলমি লতা। ম্যাডাম একটা সুগন্ধি ব্যাবহার করেন। এই সুগন্ধির ফ্লেভারে একটা সিগারেট থাকলে আমি তার আশক্তে নিজেকে ক্যানসারে সপে দিতেও রাজি থাকতাম!

ইকোনোমিক সহ আরো দুটো ক্লাস হয়। দেখতে দেখতে ছোট্ট দিনগুলো কেটে যায়। তারপর ম্যাডাম বিহীন এক বিশালদেহী রাত। আমার বয়স একুশ, ম্যাডামের কত? সাতাশ আঠাশ হবে। পৃথিবীতে দেরি করে জন্মানোর অপরাধে আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আমি খুব করে চাই এক সকালে আমার বয়স তেত্রিশ হয়ে যাক। একুশ থেকে তেত্রিশ… আমি হাসি মুখে রাজি আছি ১২ বছর বিসর্জন দিতে!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *