Type to search

সমসাময়িক

বর্বরতা নয়, ভালোবাসুন

প্রতিদিনের পত্রিকাতেই খবরগুলো আসে সাদাকালো একটা পাতায়। যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী কে হর্ত্যা, কাবিনের টাকা কমানোর জন্য হর্ত্যা, সন্ধেহের জের ধরে হর্ত্যা চেষ্টা। বর্তমান সিচুয়েশনে আঁতকে উঠার মতো কোন খবর না অবশ্য।

কিছুদিন আগে আনিসুল হকের কলামে পড়েছিলাম, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি তিনজন বিবাহিত নারীর দুজনই স্বামীর হাতে শাররীক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। কি ভয়ংকর তথ্য! আমি চায়ের দোকানে যাই, বাসে উঠি আশেপাশের লোকগুলারে দেখি। সবাই ভদ্র এরা, অথচ এদের প্রতি তিনজনের দুই জনই স্ত্রীকে নির্যাতন করেন কিংবা করেছেন।

বিয়ের কাবিন নিয়ে একটা বিষয় না লিখে পারছি না। অনেকেরই ধারনা কাবিনের টাকার অংকটা গৌরবের ব্যাপার। ‘ওমুকের মেয়ের বিয়ের কাবিন এতো, আমার মেয়ের কম কেন- আমার মেয়ে কি সস্তা?’ – ব্যাপার কিন্তু এমন না। সস্তা দামির হিসাব আসবে ব্যাবসায়ের ক্ষেত্রে। সহজ কথায় বিয়ে হলো দুইজন মানুষকে নতুন সংসার করার সামাজিক একটা স্বীকৃত। আমি যতদূর জানি, কাবিনের টাকার অংক হবে পাত্রের আয়ের উপর নির্ভর করে এবং এই টাকাটা অবশ্যই স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হবে বিয়ের পর পরই।

পুরুষ মানুষ গায়ের জোর দেখালে পুরুষের সাথে দেখাবে। যে নারী আঠারো-উনিষ বছর একটা পরিবারে থেকে সে পরিবার ছেড়ে আপনার কাছে এসেছে তার সাথে কিসের গায়ের জোর? আপনার সিগারেটে পোড়া ঠোট, ঘামের গন্ধ যে নারী আপন করে নিয়েছে তার গায়ে হাত তুলতে হাত কাঁপলো না? যে নারী ঘটকের ডায়েরিতে আপনার ছবি দেখে রাত জেগেছে স্বপ্নে, তার গায়ে কেমনে হাত তুলেন? ভালোবাসেন। ভালোবেসেই ভালোবাসা পেতে হয়, পেশির জোরে নাহ।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *