Type to search

রম্য

ফ্রেন্ডলিষ্টে যখন পরিবার

আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে বাড়ির কিছু অতি উৎসাহী পাবলিক কিভাবে যেনো ঢুকসে, এদের কাজ হইলো আমি ফেসবুকে কবে কি লিখছি এইটা আম্মুরে পড়ে শুনানো! সব পোষ্ট কিন্তু না- সাধারণত কোন মেয়ের সাথে ছবি আপলোড দিলে (এই কারনেই বাদ দিছি), ধর্ম রাজনীতি এইসব বিপদজনক ইস্যু নিয়া লিখলে সেগুলাই কিভাবে যেনো আম্মু জেনে যায়! যদি আম্মু আব্বুরে নিয়া কিছু লিখি সেটা পড়ে শুনায় না!

ফলাফর সরূপ আম্মু আমারে ফোন দিয়া বকা দেয়ার পাশাপাশি ভাইয়ারে বলে আমার নেট লাইন বাদ দেয়ার হুমকি দেয়! যদিও ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনরে আমি শাস্তি হিসেবে ব্লক করেছি, তাও নিজেরে বিপদমুক্ত দাবী করা যায়না! মজার ব্যাপার হলো, আমার মা বাবা দুজনের কেউই যেহেতু ফেসবুক চালায় না; কাজেই আম্মুর কানে ‘দুষ্ট লোকের কটুকথা’ পৌছানোর পরবর্তি রিয়্যাকশনটা হাস্যকর হয়! যেমন কয়দিন আগে প্রেমিকা নিয়া পোষ্ট দিলাম, সেটা শুনে আম্মুর ফোন,

– তোর প্রেমিকা নাকি ভাগছে?
– নাই তো, ভাগবে কেমনে!
– নাই এখন?
– হ্যা মানে কোন কালে ছিলোও না।
– ফেসবুকের খবরে লিখছিস এসব?
– খবর কই! এমনি গল্প লিখছি!
– তো এইটা ফেসবুকে দিতে হবে কেন? মানুষ যে দেখে!
– আরে মানুষ দেখলে কি!
– এসব লিখলে পরে বিয়ে করার টাইমে তো মেয়ে পাবি না!

এইতো গেলো ফোনে! কয়দিন আগে আম্মু আব্বু ঢাকায় আসার পর আমার রুমে বসা কালিন সময়ে আমি ফেসবুকে ছিলাম! তো নিউজফিডে যথারীতি কোন একজন সুন্দরীর ছবি আসলো! আম্মু বললো,
– এই মেয়েটা কে?
– ফেসবুকে পরিচিত!
– সুন্দর আছে তো!
– হ্যা, আরো ছবি দেখবা?
– দেখি, তোর বন্ধু নাকি?
– বন্ধু না ঠিক
– মেয়েটা সুন্দর!
– ভালো লাগছে? মানে ইয়ে হিসেবে!
– দেখি ছবি!

ছবি দেখাইতে প্রোফাইলে গেলাম আম্মুরে নিয়া! তাহাদের ক্যাপল পিক দেখে ফিরে আসলাম! পাশাপাশি বুঝলাম যে, বড় আপুদের উপর ক্রাশ খাওয়ার আমার যে প্রবনতাটা এটা মূলত বংশগত একটা ব্যাপার!
…নাহয় এতো মেয়ে থাকতে বিবাহিতা ওই মেয়েরেই আম্মুর ভবিষ্য পুত্রবধূ হিসেবে পছন্দ হবে কেন!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *