Type to search

সমসাময়িক

ধর্ষন ও একটি খুন

১ ই ফেব্রুয়ারি একটা বাসার পাঁচতলা থেকে ধুম করে চায়ের দোকানের চালায় কিছু একটা পড়লো। দোকানী, উৎসুক জনতা দেখলো সদ্যজন্ম নেওয়া এক নবজাতক। রক্ত মাখা চুল। চোখ ফুটেনি এখনো। ফুটেফুটে বাচ্চাটাকে পাঁচ তলার জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তার আপন গর্ভধারিণী মা। হ্যা মা, আমি টাইপিং মিসটেক করছি না।

সেই মা আবার ধর্ষনের শীকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়। ষোল বছর বয়সী সেই কিশোরীকে ধর্ষন করেছে তার আপন ভগ্নীপতি। মেয়েটা পেশায় গৃহকর্মী। গর্ভপাত করার সুযোগ না পাওয়ায় অন্য এক গৃহকর্মীর সাহায্যে বাচ্চা ডেলেভারী করে তাকে নিজ হাতে ফেলে দেয়। যাতে মানুষজন রাস্তায় মৃত্য গলীত নরম মাংসের দলা দেখে ভাবে কেউ মৃত বাচ্চা ফেলে গেছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বাচ্চাটা পড়েই মরে না। প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের তুলনায় বাচ্চাদের শরীর হালকা থাকে বিদায় ক্ষতিটা তুলনামূলক কম হয়। আর বড় কথা হচ্ছে নিষ্ঠুর নিয়তি তাকে সরাসরি রাস্তায় না ফেলে দোকানের চালায় ফেলে। তার এক পা এবং মাথার খুলি ভেঙ্গে যায়। বাচ্চার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলো যে তাকে বাঁচানো মেডিকেল সায়েন্সের কঠিনতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ালো। এবং এই কঠিন চ্যালেঞ্জটা সাহসিকতার সাথে নিলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা। সম্মিলিত চেষ্টায় ২২ দিন ফাইট করার পর পৃথিবীর প্রতি ঘৃনা নিয়ে বাচ্চাটি মারা যায়।

বেবি অব বিউটি নামে বাচ্চাটকে হাসপাতাল নথিভুক্ত করা হয়।

ঘটনাচক্রে কার পাপের শাস্তি কে পেলো? আমি কখনোই মনে করি না মেয়েটা ঠিক কাজ করেছে বাচ্চাটাকে হত্যা করে। আবার আমি এটাও বুঝি আসলে মেয়েটান কিইবা করার ছিলো? দরিদ্র ঘরে মেয়ে, অন্যের বাসার গৃহকর্মী। তারউপর ধর্ষনের ফলসরূপ জন্ম নেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চাটাকে সে সহজ ভাবে নিতে পারেনি। অপরাধ গুলো চেইন রিএকশনের মতো। একটা অপরাধ আরেকটা অপরাধের জন্ম দেয়। সেই ভগ্নীপতি যার নিজের স্ত্রী তে হয়না, শালীও চাই- সে করেছে অপরাধের শুরুটা, শেষ করেছে মেয়েটা। মাঝখানে একটা জীবন ধ্বংশ হলো। পৃথিবীতে প্রতিটা নবজাতকেরই “শিশু” হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এই পৃথিবীর প্রতিটি বাচ্চাই বৈধ। নিষ্ঠুর এই পৃথিবীতে কেউ পায়না- পীর ফকির দরগাহ মানত করে একটা বাচ্চার আশায়। কেউ খানিকের আনন্দের জন্য ভুল করে পেয়ে যায় এবং মেরে ফেলে। সমাজ আইন এদের বিচার না করলেও এরা সুখে থাকে না। অমৃত্যু বিবেক সর্বদা এদের বলে যায়- তুই খুনী! তুই খুনী!!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *