Type to search

গল্প

দ্বিতীয় মৃত্যুর গল্প

যেহুতো আমরা উভয়েই জানি এসব ঘোর, শুধু সময়ের টানে কাছে আসা; তাহলে আমরা বরং দেখা করি। আমরা কোন রেস্টুরেন্ট এ সামনা সামনি বসে স্যুপ খাই। স্যুপ খেতে খেতে তুমি আমার চশমাটা রোজকার মতো পরে সেলফি তুলবে। আমরা খুবই স্বাভাবিক থাকবো। একাবারই ঠান্ডা মাথায় দুজন মানুষ আলাদা হয়ে যাবো। পাশের টেবিলের ভদ্রলোক বা দন্ডায়মান ওয়েটার কেউই জানবে না এখানে এক মহাপ্রলয় চলছে। আমরা স্যুপ শেষ করে অন্তন খাবো। অন্তন তোমার আমার অতি পছন্দের খাবার। খাবার শেষ করে আমরা বিল দিতে গিয়ে কুৎসিত ফরম্যালিটি করবো। এক পর্যায়ে কেউ একজন বিল দিয়ে দিবো অন্যজন বিরস মুখে তাকিয়ে থাকবো যেনো বিল না দিতে পেরে খুবই মন খারাপ হয়েছে।

আমরা এক পা দুই পা করে বড় রাস্তায় পৌছাবো। আমি তোমাকে একটা রিকশা নিয়ে দিবো। আমি অন্য একটা রিকশা নিবো। যেহুতো আমরা পরষ্পর পরষ্পরের জন্য পারফেক্ট না, তাহলে আমাদের উচিৎ এখুনি আলাদা হয়ে যাওয়া। জানবো, শুনবো, পছন্দ হবে না, রোজ ঝগড়া হবে, গোমড়া মুখ করে গালি দিয়ে বলবো ‘প্রেমের মারে বাপ’ অথচ আলাদাও হবো না – এ কেমন কথা!

তুমি রিকশায় হুট উঠিয়েছো কিনা, তোমার নির্লজ্জ উড়না রিকশার চাকার আশেপাশে বিপদজনক অবস্থায় উড়াউড়ি করছে কিনা আমি সেদিন খোঁজ নিবো না। একটু দুরে গিয়ে যদি তোমার রিকশার উপর কোন আততায়ী ট্রাক চলে আসে, আমি আর সবার মতোই দৌড়ে যাবো। ফোন বের করে ভিডিও করতে পারি। তারপর স্বভাবসুলভ বাঙালি আচরনে আফসোসের চুক চুক শব্দ করে বলবো “আহা! বড় ভালো মেয়ে ছিলো। এই মাত্র দেখলাম রিকশায় উঠলো। মেয়েটার সাথে একটা ছেলেও তো ছিলো, সে কই? সেও কি মারা গেসে?”

উপস্থিত জনতা তোমার ফোন বের করবে। ডায়াল নাম্বারে তখন পর্যন্ত জাদু নামে আমার নাম্বারটাই সবার উপরে থাকবে। উপস্থিত জনতার মাঝে নেতা গোঁচের একজন ফোন দিবে, “হ্যালো এই মোবাইলের মালিক এক্সিডেন্ট করেছে। আপনি উনার কি হন?” আমি নিতান্তই অনিচ্ছা শর্তে ফোন ধরে বলবো “এই মোবাইলের মালিক আমার কিছুই হয়না। রং নাম্বার। তবে এক্টিডিন্ট হয়েছে কিভাবে বলবেন? জাষ্ট আগ্রহ আরকি!”

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *