Type to search

গল্প

জলের আল্পনা

রিকশায় উঠার আগ পর্যন্ত আমরা দুজন মানুষ পরম সুখে দুজনার ছিলাম। রিকশায় আমার গা গেঁসে বসে ও আমাকে ওর বন্ধুদের ছবি দেখায় ফোনে। ছাগলা দাঁড়িওয়ালা এক ছেলের বাইকের পেছনে ও বসে আছে এমন একটা ছবি দেখে আমি বলি,
– ছেলেটা কে?
– আমার বন্ধু।
– আমারও তো মেয়ে বন্ধু আছে, কই আমিতো তাদের সাথে এমন ছবি তুলি না।
– কি বলতে চাও?

“কি বলতে চাও” বলে জেনিফার তাকিয়ে থাকে। আমি কি বলতে চাই দুমিনিট ভাবি। খুব ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখি আমাদের একটা রং কানেকশন হয়ে গেছে। জেনিফারকে আমি যেমন দেখতে চাই ও সেরকম না। আমি কি ওর মনের মতো- এ প্রশ্নটা ভাববার প্রয়োজন আমি বোধ করিনা। আমি জেনিফারকে বলি, আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়া উচিৎ। নির্লিপ্ত জেনিফার আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে, অবশ্যই!

ঠিক এই মুহূর্তে আমার পাশে বসা সুন্দুরী মেয়েটি নিতান্তই সহযাত্রী এ ব্যাপারটা আমি সহজ ভাবে মেনে নিতে চেষ্টা করি। জেনিফার আমার হাতের তালুতে আঙ্গল দিয়ে সুড়সুড়ি দিবে না, এক দৃষ্টিতে চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে হাসাতে চেষ্টা করে করবে না এই সত্যগুলো আমি মানতে চেষ্টা করি। জেনিফার কি ভাবছে? জেনিফারকে আমি ভাববার মতো কিছু আদৌ কি দিয়েছি? নাকি এক কাঠখোট্টা স্বৈরাচারী প্রেমিকের মতো সর্বদা বাঁকা প্রশ্ন করেছি?

এসব ভাবতে ভাবতে আমার হাতে টুপ করে এক ফোটা জল পড়ে। জেরিফার কাঁদছে, ওর চোখের কাজল আর চোখের জলের কম্ভিনেশন গালে আল্পনা আঁকছে। জেনিফার কাঁদছে কেন? এই অধম আমাকে কি ও আসলেই ভালোবাসে? জেনিফার। আমার জেনিফার। আমি হাত দিয়ে চোখের জল মুঁছে দিই। জেনিফার পরম নির্ভরতায় আমার কাধে মাথা রাখে। এই নির্ভরতার নামই ভালোবাসা। আমি জেনিফারকে আলতো করে জড়িয়ে ধরি, এর অর্থ “আমি আছি জেনিফার, ভয় নেই!”

শেয়ার করুন
Previous Article
Next Article

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *