Type to search

রম্য

চৌধুরি বংশ

কয়েক মাস আগের কথা, লক্ষীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম আম্মুর হাতের বানানো শীতের পিঠা খওয়ার জন্য। তো আমাদের বাড়ির সম্পর্কে চাচাতো বোন উর্মি আপুর বিয়ের ব্যাপারে আবার তখন কথাবার্তা হচ্ছে। আপুর ফ্যামিলি যাবে ছেলেদের বাসা বাড়ি দেখতে। আপুর আম্মু বিজ্ঞের মতো আমাকে বললেন “শহরে থাকো কি দেখো না দেখো! চলো আমাদের সাথে, উর্মির জন্য ছেলে দেখতে যাবো”। আমি আগ্রহ নিয়ে বাসে ঝুলতে ঝুলতে উনাদের সাথে ছেলে দেখতে গেলাম। আমাদেরকে ড্রয়িংরুমে বসতে দেয়া হলো। ছেলে জসিম মার্কা হাসি দিয়ে এসে সবার সাথে হ্যান্ডসেককরলো। ছেলের বাবা এসে গর্বভরে বলতে লাগলো “আমাদের হইলো চোদ্রি বংশ। চোধ্রি বংশের ছেলেদের লেখাপড়া করে সময় নষ্ট করার রুলস নাই। আমাদের বংশের ছেলেদের কাজ হলো বাজার কন্ট্রোল করা। আমাদের বংশের কোন ছেলে বাসায় নাস্তা করে না। বাজারের হোটেলে দশজনের বিচার সালিশ করতে করতে নাস্তা করে।”

সে যাত্রায় উর্মি আপু সে ছেলেকে বিয়ে করেনি। উর্মি আপুর দাদী হতাশ হয়! যতকিছুই হোক, ছেলে চোধ্রি বংশের!

হঠাৎ বাজার নিয়ন্ত্রন করা সেই চোধ্রি বংশের ছেলেদের কথা মনে পড়লো গতপরশু প্রচার হওয়া ইত্যাদির লাষ্ট এপিসোডটা দেখে। নোয়াখালির হাতীয়া উপজেলার জাকির হোসাইন। পেশায় রিকসা চালক। তার পাঁচ ছেলে। বড় দুই ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তার পরের জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। তারপরের দুজনও পড়াশুনার উপর আছে। জাকির হোসাইনও এখনো রিকসাকসা চালানোর উপ্রেই আছে। স্বপ্ন যে আকাশ ছোঁয়া, আলো আনার স্বপ্ন।

আর অন্যদিকে তথাকথিত চোধ্রি বংশের ছেলেরা পড়াশুনা করে সময় নষ্ট করে না। বাজার নিয়ন্ত্রন করার মতো মহৎ কাজ করে! বাজারের মতো একটা জায়গা নিয়ন্ত্রন করার কি আছে এটা আমার বোদগম্য না।

[ এটা সার্বজনীন না। কোন চৌধুরি থাকলে ক্ষমা করবেন ]

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *