Type to search

গল্প

ক্যামেলিয়া

ক্যামেলিয়া প্রায়ই বলতো, তোর কাছে আসলে বড় অসহায় মনে হয় নিজেকে। আমি অবাক হয়ে বলতাম, কেনো? ক্যামেলিয়া স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলতো, আমার মাঝে আমি তো নাই। আমার মাঝে শুধু তুই। এই জন্যে নিজেরে অসহায় লাগে!

আমি ওই বয়সে এতোসব বুঝতাম না। আমি বলতাম, ওহ আচ্ছা। ঘুড়ি কাটাকাটির খেলার বয়সে আমি ক্যামেলিয়াকে কি করে বুঝবো? ক্যামেলিয়া বয়সে আমার পাঁচ বছরের বড়। নিতুপুর বান্ধবী। নিতুপু ওর নামটা ছোট করে লিয়া বলে ডাকতো। লিয়া আমাদের বাসায় আসতো, ছাদে শ্যাওলার কার্পেটে আমার সাথে শুয়ে পড়ে গল্প করতো। মাঝেমাঝে স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি তার প্রত্যুত্তরে কেবল দাঁত নিয়ে নখ কাটতাম!

ক্যামিলিয়ার আমার কাছে নিজেকে অসহায় লাগার ব্যাখ্যা যতদিনে আমি বুঝি ততদিনে ক্যামেলিয়ার এক ছেলে। নিতুপু তার প্রফেসর স্বামীকে নিয়ে বাসায় বেড়াতে আসলে ক্যামেলিয়াও কোন-কোনবার আসে। তাকে আগের মতো উচ্চল প্রাণবন্ত মনে হয়না। তাও আমি মুগ্ধ হই। আমি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। নানান গল্পের ছূতোই আমি কাছাকাছি ঘেঁষতে চাই।

তারপর এক বিকেলে যখন ক্যামেলিয়া এসে বাবা মার কাছে বিদায় নিয়ে বলে, তার প্রবাসী স্বামীর সাথে সেও বিদেশ চলে যাচ্ছে- আমার সেদিন বড় অসহায় লাগে। মনে হয় আমার ভেতরটায় আমি কই, সব তো নয় বছর আগের ক্যামেলিয়া! এই অসহায়ত্বের নাম কি? কে জানে!

জাহিদ রাজ রনি, ০২ জুন ২০১৭

শেয়ার করুন
Tags:

You Might also Like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *