Type to search

গল্প

কাঁচের চুঁড়ি

– আপনি আমাকে কেনো ফোন দেন?
– সবসময় তো তুমিই ফোন দাও। আমি তো আজই দিলাম
– সবসময় আপনি ফোন দেন না কেন?
– আমার ফোনে টাকা থাকে না।
– এখন টাকা আছে?
– হ্যা
– টাকা কোথায় পেলেন?
– আজকে টিউশুনির টাকা পেয়েছি।
– কত টাকা?
– সাতশো। কাঁচের চুঁড়ি তোমার পছন্দ?
– কেনো? কিনবেন?
– হ্যা কিনবো। আলতা পরো? চোখে কাজল দাও?
– সাতশো টাকার চুঁড়ি আজকাল পাওয়াও যায় না।
– পাওয়া যায় চিত্রা। আমি নিউমার্কেট দেখেছি।
– আমি ওসব চুঁড়ি, কাজল কিছুই পরি না। স্ক্রিনে সমস্যা হয়।
– কেনো?
– কারন ওগুলো রাস্তায় বিক্রি হয়। ধুলোবালি থাকে। অনেক মানুষ ধরে দেখে। পরে দেখে।
– চিত্রা আমিও রাস্তায় থাকি বেশির ভাগ সময়। আমি ছুঁলে কি তোমার স্ক্রিনে সমস্যা হবে?
.
চিত্রা কি বলবে ভেবে পায় না। সাতশো টাকায় আজকাল ক্লাস টেনের বাচ্চারাও টিউশুনি করায় না। অথচ স্নাতকোত্তর করা এই অদ্ভুত মানুষটা ওই একটা টিউশুনিই করায়। মাস শেষে সাতশো টাকা হাতে পেলে এমন ভঙ্গি করে যেনো সাতশো টাকায় অনেককিছু করে ফেলবে। চিত্রার শুনতে খারাপ লাগে না। কি অদ্ভুত মানুষ। রাস্তার সস্তা চুঁড়ির সাথে নিজের তুলনা করে। অবশ্য অভ্রু মানুষটা সস্তাই বটে। চিত্রলেখা সস্তা না। এই শহরে যাদের একটা পাঁচতলা বাসা আছে তাদের সস্তা বলা যায় না। চিত্রা মূল্যবান, অথচ সস্তা একটা মানুষের প্রেমে পড়ে বসে আছে!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *