Type to search

গল্প

এশার বারান্দা

রাস্তা থেকে তিনতলা বাসাটার উপর তলা দেখিয়ে এশা কাধের চুল পাশ করে বলে, এই বাসাটা কেমন? একটা ভালো বাসার গুণাবলি কি হতে পারে এ বিষয়ে আমার জ্ঞান জাহাজ সম্পর্কে আদার ব্যাপারীর জ্ঞানের সমতূল্য। এশা জানতে চাইলে আমি বরং ‘ভালোবাসা’ নিয়ে দশকথা বলতে পারি। কাজেই আমি বাসা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে বললাম, ‘সুন্দর বাসা, এটা নিতে পারো!’

এশা ঘাড় বাকিয়ে বললো,

– কিভাব বুঝলে সুন্দর বাসা?

– এইযে বারান্দায় ঝুলন্ত অর্কিড!

– ঝুলন্ত অর্কিড থাকলেই বাসা নিতে হবে? সুযোগ সুবিধে দেখবে না?

– তাইতো! চলো কথা বলি!

– তুমি কি সবসময় এমন গাধা থাকবা?

– আচ্ছা বাবা চলো!

– আমি দেখেই একটা গাধার সাথে সাত বছর আছি। মানুষ বিয়েতে ফুলেরমালা পরে গলায়, আমি পরবো গাধার দড়ি!

আমি চুপ করে থাকলাম। এই কথাটা এশা প্রায়ই বলে। বছর বছর শুধু সংখ্যাটা বাড়ে। সাত বছর ক্যালেন্ডারের সাতটি সংখ্যা হলেও আমার আর এশার জন্যে ছিল যুদ্ধের মতো! সাতবছরে সাত হাজার বারেরও বেশি আমি আর এশা স্বপ্ন দেখেছি, আমাদের একটা ছোট সংসার হবে। দুইরুমের ছোট বাসা। টানা বারান্দা। বারান্দায় জোছনা রাতে আমি আর এশা বসে কফি খাবো! কফিতে ক্যাফেইন থাকে, এতে ঘুমে সমস্য হয়। আমাদের ঘুমে সমস্যা হলে আমরা মুখোমুখি শুয়ে গল্প করবো!

কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলে আমি আর এশা বের হলাম। বড় রাস্তা থেকে ভেতরের এই গলীতে রিকসা নেই। এশা আমার বাহু ধরে হাঁটছে। এশার চশমায় কোন সমস্যা হলে এশা এভাবে আমাকে ধরে হাটে। পেছনে আমাদের বাসা! আমার আর এশার স্বপ্নের সংসার! এশা গো- আর তো সাতটা দিন!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *