Type to search

জাহিদীয়

ইচ্ছের কিচ্চে

আব্বু ঢাকায় চাকরি করতো, আম্মু আমি আর ছোট ভাই গ্রামে। প্রতি জুনে ঢাকায় বেড়াতে আসতাম আব্বুর কাছে। জানুয়ারি তে হিসাব শুরু করতাম; কবে আসবে জুন। জন্মের পর থেকে ২০১০ পর্যন্ত সেইসব জুনের আনন্দ ভাষার প্রকাশ করা অসম্ভব। শুক্রুবার আব্বুর আঙ্গুল ধরে গুলশান ওয়ান্ডারল্যান্ডের পাশের দেয়ালের মিকি মাউসের চিত্র দেখতে দেখতে আজাদ মসজিদে যেতাম নামাজ পড়তে। সপ্তাহঘুরে শুক্রুবার আসে এখনো। আজাদ মসজিদ কেন পুরো ঢাকা শহরে হাটতে আজ আর আঙ্গুল ধরার কেউ লাগে না। আব্বুর আঙ্গুল ধরে হাটতে আজকাল লজ্জা লাগে।

ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়ার দিন কান্না পেতো ভীষন। আব্বুর জন্য না, পড়াশুনা করতে হবে আবার – এইসব ভেবে। মার্কেটের এসক্যালেটর লিফ্ট ছিলো আরেক অবাক করা বস্তু। বড় ভাইয়ার কাছে আবদার করতাম চলন্ত সিড়িতে উঠানোর জন্য। কি অদ্ভুত, সেই সব ইচ্ছেরাও আজ মরে গেছে!

শহরটাকেও আজকার পর পর মনে হয়; কিংবা খুব বেশি আপন তাই গাঁ ছাড়া ভাব। ঢাকায় আসার ঠিক সেই আনন্দটা এখন গ্রামে যাওয়ার সময় পাই। সময়ের সাথে সাথে ইচ্ছেরা মরে যায়। আজকের ইচ্ছে আজকের পূরন না হলে কাল সেটা নিজের কাছেই হাস্যকর হয়ে দাড়ায়। সবকিছু থেকে যায় ঠিকঠাক আগের মতো। মানুষ বড় হয়, ছোট্ট ইচ্ছেরা ছোট্ট হয়; হতে হতে বিলিন হয়ে যায়।।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *