Type to search

গল্প

আ জার্নি বাই রিকশা

বিমানবন্দরের রাস্তায় রিকশা দেখে মিসাকি যেমন অবাক হয়েছিল, সে রকমই বড় বড় চোখ করে খুব কাছ থেকে মহব্বত আলীর রিকশা দেখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। চারদিক থেকে ঘুরে ঘুরে দেখে ভ্রু কুঁচকে ডিকশনারির বাংলায় বলল, ‘এই বাহনে আসন গ্রহণ করব কীভাবে?’

—এই যে, এই সিটে বসে।
—সিটবেল্ট নেই!

আমি বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে রিকশার সিটে বসে প্রমাণ করতে চেষ্টা করলাম, ব্যাপারটা মোটেই এ রকম কিছু না। মিসাকিকেও উঠে আসতে বললাম। মিসাকি আমার পাশে মূর্তির মতো জড়সড় হয়ে বসে এক হাতে হুড অন্য হাতে আমার বাহু ধরে বিড়বিড় করে কিছু বলল। এতক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে হাসছিল রিকশাচালক মহব্বত। মহব্বত আলী আমার পূর্বপরিচিত। তাকে বললাম, ‘না হেসে চালাও এবার…খুব ধীরে চালাবা।’ মহব্বত আলী সম্ভবত মিসাকির রিকশাভীতি দেখেই তার রিকশাচালক জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনকভাবে রিকশা চালাতে লাগল!
মিসাকি কাঁদো কাঁদো চোখে একবার আমার দিকে, একবার সামনের দিকে তাকাতে লাগল। এই বিলিতি সুন্দরীকে এখন মনে হচ্ছে, বাবার বাড়ি নাইয়র খেটে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে থাকা কোনো মন খারাপ বধূ! আমি মিসাকির আঙুল ধরে বললাম,
—কেমন লাগছে?
—আমি কিছু বোধ করছি!
—এখানে ‘বোধ’-এর চাইতে অনুভব শব্দটা সুন্দর।
—কথা বলো না, প্লিজ!
—কেন?
—আমাকে অনুভব করতে দাও!

আমি মিসাকীকে দেখতে লাগলাম। টিএসসির রাস্তায় শত রিকশার ভিড়ে মহব্বত আলীর রিকশা এখন বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। মিসাকির চোখে আনন্দ আর কৌতূহল। প্রথমবার ট্রেনের ছাদে বসে ভয় কেটে যাওয়ার পর কোনো কিশোরের যেমন অনুভূতি হয়! এই রিকশা চলুক, আজ আমাদের তাড়া নেই।

জাহিদ রাজ রনি
প্রথম প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৭, ছুটির দিনে, প্রথম আলো।

শেয়ার করুন
Tags:

You Might also Like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *