Type to search

জাহিদীয়

আমার ছোটবেলার ভালো মানুষেরা

আব্বুর অফিসে ইসলাম নামের একজন প্রহরী ছিলো, যিনি আমাকে ভীষন আদর করতেন। প্রতি জুনে ঢাকায় আসতাম বেড়াতে। উনি আমার মুখে নোয়াখালীর ভাষা শুনার আবদার করতেন। আমি শুনাতাম, উনি চিপস চকলেট কিনে দিতেন। আব্বু চাকরি রিটায়ার্ড করেছেন। গতবছর আব্বুর সাথে সেই অফিসে যাই। পরিচিত কেউই নাই আগের। আব্বুর আগের রুমেটায় অন্য লোক থাকে। তিনি সন্দেহের দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া পুরণো কারো খবরই দিতে পারেননি।

একবার ঢাকা থেকে বাসে গ্রামে যাওয়ার সময় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অপেক্ষারত এক যুবক পিচ্চি আমাকে ভীষন আদর করে। এক পর্যায়ে আমরা যে বাসে টিকেট কেটেছি তিনি সে বাসের টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করে। সেটা আর সম্ভব হয়না। বাসে উঠে চলে আসার সময় সল্প পরিচয়ের তিনি ছলছল চোখে আমাকে কোলে করে বাসে তুলে দেয়। তাকে আমি আর কোনদিন খুঁজে পাইনি।
আমাদের লক্ষীপুরের বাড়ির পাশেই মাদরাসা। দূর দূরান্তের ছাত্ররা হোস্টেল থেকে পড়ে সেখানে। সেরকম এক ছাত্রের কাছেই আমার প্রথম প্রাইভেট পড়ার হাতেখড়ি। নাম চেহারা কিছুই মনে নেই আমার। শুধু মনে আছে ওই মাদরাসায় উনার পড়া শেষ যাওয়ায় একদিন উনি বিদায় নিতে আসলেন। আমিও কাঁদছি, উনিও কাঁদছেন। এই চোখের জলের মূল্য আমি কবে দিবো? কিভাবে দিবো?

সার্থপরের মতো এমন কতগুলো মানুষকে ভুলে গেছি। তাদেরও হয়তো আমার কথা এখন মনে নেই। ভালোবাসা বড় অদ্ভুত ব্যাপার। কখন কাকে কোন অকারনে মন ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ফেলে। হারিয়ে যাওয়া এইসব মানুষদের সামনে দাড়িয়ে একদিন যদি নিজের পরিচয় দিয়ে জড়িয়ে ধরতে পারতাম, ইসস! ভালো মানুষেরা ভালো থাকুক সবসময়। সৃষ্টিকর্তা এদেরকে অমৃত্যু ভালোবাসায় বাঁচিয়ে রাখুক।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *