Type to search

জাহিদীয়

আমার ‘কোমড়াচ্যাঙ্গি’ ভোগ

আমার স্কুলের স্মৃতি মনে করতে গেলে মনে পড়ে কাশেম স্যারের অংক ক্লাস, আমরা তিন চারজন “কোমড়াচ্যাঙ্গি” নামক একটা শাস্তির উপরে আছি। অপরাধ হলো আমাদের মধ্যে কেউ একজন একটা মেয়েকে কলমের ছিঁপি মেরেছে। কাশেম স্যারের লাল চামড়া, মুখে গোঁফ দাড়ি। চোখে চশমা, চশমার ভেতরে লাল চোখ। সেই লাল চোখে স্যার তাকিয়ে বললেন, “বল তোদের বেঞ্চ থেকে কে মারসে?”

আমরা জাতীয় সংগীতের মতো সমস্বরে বলে উঠলাম, “আমরা জানি না!” সার আমাদের সামনে নিয়ে বললেন, পুরা ক্লাস কুমড়াচ্যাঙ্গি দিয়ে বসে থাক। উবু হয়ে বসে হাটুর নিচ দিয়ে হাত নিয়ে কান ধরা। সে অবস্থায় অপরাধীকে কোমড়ার মতো দেখায় তাই শাস্তির এই নামকরন।

আমরা তিন জন কিংবা চারজন, মনে নেই- মোটামুটি বিশ মিনিটের মতো সে অবস্থায় বসে রইলাম। আমি এসব শাস্তির সাথে পরিচিত না। আসি ক্লাসে কখনো গুডবয় হয়না, ফেল্টুস ও হইনা। এভারেজ টাইপের। স্যার, ম্যাম এবং ক্লাসের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েই আমাকে ভালো করে চিনতো না এবং এখনো চিনে না। কোমড়া হয়ে বসে থাকতে থাকতে আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, ছুটি হওয়ার পর অভিযোগ জানানো সেই মেয়েটার সাথে কথা বলবো। জানতো চাইবো কেনো এই কর্মভোগ?

জিজ্ঞেস করা হয়নি। সেইরকম সাহস আমার ছিলো না। এখন আছে বলেই আমার ধারনা। কাশেম স্যারকে অনেকদিন পর মনে পড়লো। পড়ায় মন বসে না। পিচ্চি ভাতিজী বললো, “এক কাজ করো, একজন স্যারের ছবি একে পড়ার টেবিলে লাগিয়ে রাখো। তাহলে দেখে ভয় লাগবে আর পড়ায়ও মন বসবে!” আমি পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে এ’ফোর কাগজে স্কুল কলেজ পেরিয়ে আসা সব স্যারদের মধ্যে খুঁজে কাশেম স্যারকে আঁকতে লাগলাম।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *