Type to search

গল্প

আঞ্জুমানের সংসার

ডেটিং বলতে মূলত যেমনটা বুঝানো হয় আমাদের ওমনটা হয়নাই। এই শরীরী প্রেমের যুগে এসে আমাদের ডেটিং ছিলো, সে তার কোন ফ্যামিলি মেম্বারের সাথে ঘুরা এবং এবং পেছন পেছন এলাকার বখাটে পোলাপানের মতো আমার ঘুরঘুর করা! আমি এইসবে ঠিক নিজেরে মানাইয়া নিতে পারতাম না। প্রেমিক না, আমার নিজেরে একজন ইভটেজার মনে হইতো।

সে মাঝেমাঝে পেছন ফিরে তাকাইলে আমার কলিজা মোছড় দিতো, এই বুঝি তার পাশের আন্টি কিংবা ভইয়া আমারে নোটিস করে ফেলসে আর তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে আমাকে পুলিশে দিয়া দিসে! আমি বারবার ফোনে টেক্সট করি, ‘পেছনে তাকাইয়া না তো বারবার, হাটো নিজের নিজের মতো…’ আঞ্জুমান রিপ্লাই করে, ‘তোমারে এমন বাস্তুহারার মতো লাগতেসে কেন, শার্ট ইস্তি করো নাই?’

আমার খানিকটা লজ্জা বোধের পাশাপাশি বিরক্তি হয়। শার্ট ইস্তি করি নাই তো কি, আমারে তো মার্কেটের আয়নায় ভালোই দেখাইতেসে। আর প্রেমিকা শ্রেণীর দৃষ্টি হতে হবে মুগ্ধতার। বলতে হবে, ‘আরে! এলোমেলো পোশাকে তো তোমারে হিমু হিমু লাগতেসে! আশ্চর্য!’

আঞ্জুমান এগুলা কখনো বুঝোনা! আমি যেসব খুব ভালোভাবে বুঝি, আঞ্জুমান সেসব না বুঝলেও হইতো; ও ওইসব রীতিমত ঘৃণা করে! চুমু খাইতে বললে বলে, চুমু খাওয়া মানে থুথু খাওয়া! আমার অভিমান হয়। এই দুই মেরুর দুইটা মানুষের প্রেম হওয়ার কোন দরকার ছিলোনা। দুই শহরে দুইজন থাইকাই রোজ আমাদের যেই পরিমাণ ঝগড়া হয়, এ ছাদের নিচে থাকলে চুল ছিড়াছিড়ি হইতো। আমার আর আঞ্জুমানের সংসার হইতো জাহান্নাম! অথচ বেকুব আমি, এই জাহান্নামের জন্যেই পাগল!

আঞ্জুমানের সংসার | ১৬ মে ২০১৭

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *