Type to search

গল্প

অমানুষ

এলার্মের শব্দে নীলুর ঘুম ভাঙ্গে। তার পাশেই শুয়ে আছে সৌম। বাবা মায়ের মাঝখানে গুটিয়ে শুয়ে আছে তিতি। নীলু সৌমকে দেখে। ওর মাঝে মাঝে বিশ্বাস হয় না, এইতো সেদিন ওরা সবার চোখ ফাকি দিয়ে জিয়া উদ্যানে, রমনাতে, টিএসসিতে ঘুরে ঘুরে প্রেম করতো! আজ তাদের একটা সংসার, সে সংসারে পাঁচ বছরের তিতি! আবেশে চোখ বুঝে আসতে চায় নীলুর। ওর ইচ্ছে করে সৌমের বুকে একটু মাথা রাখতে।

নীলু তিতিকে ডেকে তুলে। “মামনি উঠো, স্কুলের সময় হয়েছে”- তিতি উঠে না। ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে “আজ পেট ব্যাথা যাবো না মা!” নিলু হাসে। মেয়েটা স্কুল কামাইয়ের চেষ্টা রোজই করে। নানান অজুহাত। ততক্ষনে সৌম উঠে ফ্রেস হয়। বাপ মেয়ে একসাথে বের হয়। অফিস যাওয়ার পথে তিতিকে ড্রপ করে দেয় সৌম। নিলু ওদের যাত্রাপথে তাকিয়ে থাকে। এতো সুখ ওর কপালে ছিলো না। স্কুল শেষ করার বছরই নিলুর মা মারা যায়। বাবা তখনই বিদেশ চলে যায়। নিলুকে একটা পলিট্যাকনিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়ে যায়। দেশে আত্নিয় সজন তেমন নেই। নিলুকে থাকতে হয় হোস্টেলে। তারপর একদিন সেই কালোরাত নামে। কলেজ তখন বন্ধ। হোস্টেলের বেশির ভাগ ছাত্রিরাই যার যার বাড়ি চলে যায়। সেদিন সন্ধ্যায় কলেজের বরকত স্যার ভূড়ি নাচাতে নাচাতে হোস্টেলে আসে। নিলু তখন রুমে ঘুমিয়ে। বরকত স্যার নিলুর দরজায় এসে দাড়ায়। একবার আসে পাশে দেখে। তারপর ভেতরে ডুকে দরজায় খিল দেয়!

নাহ! নিলু আর ভাবতে পারছে না। ওর গা কাঁটা দিয়ে উঠে। তারপর পরিচয় হয় সৌমের সাথে। তিনবছরের প্রেম, বিয়ে অতঃপর তিতি। এতো সুখের মাঝেও মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠে নিলু। অন্ধকার রুম, একটা কালো পশমি হাত এগিয়ে আসছে তার দিকে। হাতে সোনালি চেইনের ঘড়ি, বরকত স্যার!

নিলু গ্রেজ এ তিতি আর সৌমকে বিদেয় দিয়ে বাসায় ডুকে। ড্রইং রুমে পড়ে আছে তিতির ড্রইং খাতা। উফফ, মেয়েটা বড্ড বেখেয়ালি; মনে মনে বলে নিলু। খাটে বসে তিতির ড্রইং খাতা খোলে। এক পৃষ্ঠা দুই পৃষ্ঠা। চমকে উঠে নিলু! এটা কি! তিতির ড্রইং খাতায় একটা কালো পশমি হাত আর্ট করা, নিচে বড় অক্ষরে লিখে “ইংলিস টিস্যার”!

সৌমরা ফিরে আসে। তিতিও আসে। নিলু তিতিকে কোলে নিয়ে বসে থাকে। সৌম চিন্তিন ভঙ্গিত সিগারেট টানে। নিলু কেঁদে উঠে হঠাৎ, “আমার মেয়ে! আমার ছোট্ট মেয়ে! কতো অমানুষ হলে… আমার ছোট মেয়েটাকে…”

সৌম জানালায় তাকিয়ে থাকে। নিলুও তাকায়। জোছনার আলো ওদের ঘরে আসছে। আজকের জোছনাটা কেমন যেনো। নিলু সৌমের দিকে তাকায়। সৌমের দিকে তাকালে ভরসা পায়। চাঁদ যেনো আজ সমস্ত জোছনা ওদের জানালায় ডেলে দিয়েছে। চাঁদ ডুবে যাবে একটু পর। সূর্য উঠবে। কালকের ভোরটা অন্যরকম হবে। আলো আসবেই! কাল বা পরশু! নিলু তার নিজের সময় হেরে গেলেও তার তিতির জন্য হারবে না!

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *