Type to search

কবিতা

অপূর্নতা

জীবন দেখেছিলাম আমি পথের কলিতে,
রবীন্দ্রসরোবরের পাশে কুকুরের গলা জড়িয়ে থাকা
কিশোরের ঠোটের কোনে।
তৃক্ষতার মাঝেও সুন্দর বা সুন্দরের মাঝে তৃক্ষ!

ঘৃনা দেখেছি ডাষ্টবিনের পাশের পঁছা মাছের পোটলায়,
বন-বন করে মাছি উড়তে দেখেছি বেশ্যার খোলা চুলে
ওখানটায় পড়ে ছিলো,
হাড়ের ভেতরে বুকের মাংসে
যেভাবে কামড় বসায় শিয়াল; ঠিক সেইভাবে মাটি কামড়ে।

উচ্চাস দেখেছিলাম আমি শীলার এলো চুলে,
দারুচিনি দ্বিপের ঢেউ এর মতন
স্নান শেষে শীলার ভেজা চুল
ঠিক তপ্ত মরুভূমিতে এক পষলা বৃষ্টি,
আর অবাদ্য কিশোরীর চপলতা!

কষ্টতো রোজই দেখি,
হাসপাতালের মর্গে লাশের বেওয়ারিশ
হৃদপিণ্ড দেখেছি।
ড্রেনের উপরে ভিখারির বিক্ষিপ্ত বমির
শব্দ শুনেছি।
চিরজৌবনা নারীর রুপ খসে পড়তে দেখছি
দেয়ালের রং বা বৃদ্ধের তেজের মতন!

তবু ভালোবাসা কি আমার দেখা হয় না,
হাজারো সাহিত্য পড়েছি,
মোড়ের বটতলায় ধ্যান করেছি
কিশোরীর খোঁপায় রক্ত কবরী দিয়েছি
তবু আমার পৃথিবী রঙহীন ছিলো।

তারপর এক তপ্ত দুপুরে আমি আবিষ্কার করলাম,
অনেকদিন আগে এক সন্ধ্যায়
মরে গেছি আমি।
কোনো ট্রাকের থাবায় না;
কোনো হাসপাতালের বারান্দায় না;
কোনো পত্রিকায় সেই লাশের ছবি
আসে নি সেদিন।
কোনো দাফন কিংবা জানাজা
হয়নি সেদিন!

(০২-০৩-১৫)

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *